অর্থনীতিকে সচল রেখে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে ডিজিটাল প্রযুক্তি : পলক

১৮ নভেম্বর, ২০২০ ১৩:২৭  
করোনার কোপেও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখে চলতি বছরের জুনে ৫.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আর ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি ৩৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে। ফিকি গ্লোবাল ইয়ং লিডার্স সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে কোভিড ১৯ হানার শুরু থেকে শুরু কৃষি সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে প্রযুক্তির লাগসই ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। বক্তব্যে ‘ভারত-বাংলা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সত্যিই গভীর ঐতিহাসিক এবং ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্পর্ক সার্বভৌমত্ব, সমতা, বিশ্বাস এবং বন্ধুত্বের উপর ভিত্তি করে একটি সর্বব্যাপী দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব প্রতিফলিত করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উদ্ধৃত করে জুনাইদ আহমেদ পলক আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে এর মাটি ও জনগণ। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর পরেও আমরা উপলব্ধি করি যে এই বিবৃতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আজ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মহামারীর শেষ ৬ মাসে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য স্থানীয় মানব সম্পদের উপর নির্ভর করতে সক্ষম হয়েছে। বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও ২০২০ সালে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ মাত্র দুটি আসিয়ান ও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির একটি দেশ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আমরা আমাদের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি। কৃষি সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখাতে পেরেছি। এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত ৫.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই প্রযুক্তি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন ঘোষণার মাধ্যমে ১১ বছর আগে এই যাত্রা শুরু করেছিলেন। তার নেতৃত্বেই ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের জিডিপি ৩৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে।’ ভিশন ২০২১ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্থপতি, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সাজীব ওয়াজেদ ই-গভর্নেন্স, কানেক্টিভিটি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, মানব পুঁজি উন্নয়ন ও আইসিটি শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেছেন। মহামারী সত্ত্বেও, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমরা সময়মতো এই রূপকল্প অর্জন করব। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া আউটসোর্সিং শিল্পে ডিজিটাল কাজের দক্ষতা অর্জন করেছে। এমনকি মহামারীর সময়, আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে আমরা ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রায় ৫০,০০০ তরুণ এবং নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের মতে, বাংলাদেশে ৬০০,০০০ এর ও বেশি ডিজিটাল কর্মী রয়েছে, যা এটিকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন কর্মীদের পুল হিসেবে গড়ে তুলেছে। তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল হিউম্যান ক্যাপিটাল এবং অবকাঠামোতে ফলপ্রসূ বিনিয়োগের ফলে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় আমাদের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি। গত ছয় মাসে গত বছরের তুলনায় ব্যান্ডউইথ ব্যবহার দ্বিগুণ বেড়েছে। আমাদের দৈনিক মোবাইল আর্থিক লেনদেন ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমাদের ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবসা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আমাদের শিক্ষা এবং আমাদের বাণিজ্য এবং বিনোদন অব্যাহত রাখতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছি এবং আমাদের মাথাপিছু আয় এ বছর বেড়ে ২০৬৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা ২০১৯ সালে ১৯০৯ মার্কিন ডলার। ফিকি ইয়াং লিডার্স ফোরামের কো-চেয়ার অভিষেক গাঙ্গুলির সঞ্চালনায় একই ফোরামের সভাপতি শ্বাসত গঙ্কা, হরিয়ানার ডেপুটি চিফ মিনিস্টার দুসন্ত চট্টলা বক্তব্য রাখেন।